
গত বছর ঠিক এই দিনে, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ, ঢাকার বেইলি রোডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিল এক তরুণ প্রতিভা—নাহিয়ান আমিন। গণিতের প্রতি তার ভালোবাসা, তার নিষ্ঠা, তার স্বপ্ন—সব কিছু এক মর্মান্তিক আগুনের লেলিহান শিখায় বিলীন হয়ে গেল। আজ এক বছর পরেও আমরা তাকে ভুলতে পারিনি, ভুলতে পারবও না। কারণ নাহিয়ান শুধু বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ছিল না, সে ছিল সম্ভাবনার প্রতীক, এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যা অকালেই নিভে গেছে।
নাহিয়ান গণিতযজ্ঞের একজন গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক সদস্য ছিল। গণিতযজ্ঞের ক্যালিব্রেশন রাউন্ডগুলোর প্রবলেম সেটিং ও কো-অর্ডিনেশনের দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে, এবং সে এই কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করত, তাই আমরা তাকে ভালোবেসে "ক্যালিব্রেটর" বলে ডাকতাম। গণিত নিয়ে তার গভীর ভালোবাসা ও দক্ষতা আমাদের সবার অনুপ্রেরণা ছিল। অথচ আজ আমরা তার স্মৃতিচারণ করছি, কারণ একটি অনিয়ন্ত্রিত, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার কারণে সে অকালে ঝরে গেছে।
নাহিয়ান বেঁচে থাকলে হয়তো আজ সে দেশের জন্য আরও অনেক কিছু করতে পারত। কিন্তু বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দায়িত্বহীনতা আর দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়িক মনোভাব তার সেই সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। যে ভবনে আগুন লেগেছিল, সেটি ছিল অনিরাপদ। যথাযথ অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না, প্রতিটি সিড়ির সাথে লাগোয়া ছিল বিশাল বিশাল অননুমোদিত গ্যাস সিলিন্ডার, ছিল না পর্যাপ্ত বহির্গমন পথ। আর এসব কিছুর পরও, এক বছর পেরিয়ে গেলেও, এই ঘটনার জন্য কেউ শাস্তি পায়নি। অপরাধীরা এখনও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর নাহিয়ানের পরিবার আজও শোকে পাথর হয়ে আছে।
তার বাবা-মা এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না যে তাদের একমাত্র ছেলেকে এভাবে হারাতে হবে। বাবা বাকরুদ্ধ, মা শুধু কাঁদেন। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার কথা ছিল নাহিয়ানের, কিন্তু সে ফিরেছে লাশ হয়ে। এটা কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না—এটা ছিল আমাদের সমাজের চরম অবহেলা, দায়হীনতার নির্মম পরিণতি।
আমরা কি শুধু নাহিয়ানকে স্মরণ করেই ক্ষান্ত হব, নাকি তার মতো আর কোনো তরুণ প্রতিভা যেন না হারিয়ে যায়, তার জন্য কিছু করব? বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি যতদিন থাকবে, ততদিন হয়তো আরও অনেক সম্ভাবনাময় জীবন এভাবেই নিভে যাবে। নাহিয়ান কেবল একটি নাম নয়, সে একটি প্রতীক—একটি প্রশ্নচিহ্ন, যা আমাদের বিবেককে বারবার নাড়া দেয়।
The contest will start on February 28, 2025 at 9:00pm UTC+6:00 and will run for 1 hour .
The contest will be rated for all the participants making at least one submission. The rating changes will be applied once the contest ends. Gonitzoggo uses the ELO-MMR algorithm for rating calculation.